বাবার অসম্পূর্ণতাকে ঢেকে দেওয়ার স্বপ্নে বুঁদ ফারদিন আলি মোল্লা

মনে আছে ফরিদকে? মনে পড়ে ফরিদের ফুটবল? ৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০০০-এর অনেকটা জুড়েই কলকাতা ময়দানের সাড়া জাগানো নাম ফরিদ আলি মোল্লা। কিন্তু তিনি যে মেঘে ঢাকা তারা। এটাই দুর্ভাগ্যের যে সম্পূর্ণতা পায়নি ফরিদের কেরিয়ার। যোগ্যতা, দক্ষতা, প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও রেলের চাকরির জন্য বড় দলে খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে। একটা আফসোস, একটা আক্ষেপ, একটা হতাশা এখনও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় ফরিদকে। আর তাই ছেলে ফারদিন আলি মোল্লার মধ্যে দিয়ে নিজের অসম্পূর্ণতাকে ঢেকে দিতে চান। একইভাবে বাবার কষ্টকে ভোলাতে, বাবার অস্ম্পূর্ণতাকে ঢেকে দেওয়ার স্বপ্নে বুঁদ ফারদিনও।
এর মধ্যেই অবশ্য বড় দলের জার্সি গায়ে উঠেছে। ফেরান্দোর এটিকে মোহনবাগানের হয়ে আইএসএলে চারটি ম্যাচ খেলার পর এবার তো ফারদিন মহমেডানের হয়ে খেলে চলেছেন আইএসএলের মঞ্চে। তবে আরও ভালোভাবে, আরও প্রভাব বিস্তার করে নিজেকে বড় দলের আরও বড় ফুটবলার করে বাবার আক্ষেপ মেটাতে চান।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসায় চাকরি করা ছাড়া উপায় ছিল না ফরিদের। বারবার ডাক পেয়েছেন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডানের, সুভাষ ভৌমিক তো একবার তাঁকে ইস্টবেঙ্গলে নেওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বি্ধি বাম। ফরিদ বলছিলেন, “বড় দলে খেলার স্বপ্ন সবারই থাকে। আমারও ছিল। কিন্তু বাবা মায়ের কথা ফেলে, চাকরি ছেড়ে বড় দলে যেতে পারলাম না। তাই তো ফারদিনকে বলি, আমার সুযোগ বা উপায় ছিল না। তোমাকে সব রকম সুযোগ করে দিচ্ছি। কাজে লাগিয়ে বড় দলে প্রতিষ্ঠা পাও। তাতেই আমার কষ্ট লাঘব হবে।“
কালিকাপুরের বেনিয়াবউ মৈত্রী সঙ্ঘের মাঠে নিজের হাতেই ছেলেকে তৈরি করেছেন ফরিদ। সেখান থেকে এটিকের ট্রায়ালে পাস করে ডেভলপমেন্ট দলে সুযোগ। তারপর হাবাস ও ফেরান্দো দুজনেই ফারদিনকে সিনিয়র দলে ডেকে নেন। এখন মহমেডনে মেহরাজের বিশ্বস্ত সৈনিক। চোখে স্বপ্ন, বুকে বিশ্বাস নিয়ে ফারদিন জানান, “সবে শুরু। আরও অনেক দূর যেতে হবে আমাকে। হ্যাঁ, অবশ্যই বাবার অসম্পূর্ণতাকে ঢেকে দেওয়ার চ্যালেঞ্জটাই আমার সবচেয়ে বড় মোটিভেশন।“
এখনও বলতে গিয়ে বুক ভেঙে যায় ফরিদের, “দেড় দিন অভুক্ত থেকে দলের অনুশীলনে গিয়েছি। খালি পায়ে ট্রায়ালে গিয়েছি।“ আর তাই তো রেলের চাকরিকে আঁকড়ে ধরে নিজের সব স্বপ্নকে দূরে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এসব জানেন, শুনেছেন ফারদিন। তাই চোয়াল চাপা জেদ, বুকে আগুন নিয়ে নিজের লক্ষ্যের দিকে দৌড়, দৌড় আর দৌড় ফারদিনের।
