কীভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যর ফুটবল জীবন

আটের দশকের ভারতীয় ফুটবলে সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ফুটবলার ছিলেন তিনি। মাঠের মধ্যে নায়কের মত তাঁর বিচরণ। মাঠের বাইরেও নায়কের মত আচরণ সুর্দশন ফুটবলার বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যর। তখন তাঁকে ঘিরে মানুষের ভিড়। মাঠে, মাঠের বাইরে। জাতীয় কোচ চিরিচ মিলোভানের সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র ছিলেন। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল থেকে জাতীয় দল – সর্বত্র দাপিয়ে খেলেছেন। ভারতের হয়ে দুটি এশিয়ান গেমস, প্রি অলিম্পিক, প্রি ওয়ার্ল্ড কাপ, মারডেকা, কিংস কাপ বাদ নেই কিছু। কিন্তু সেই বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যর পরিণতিটা হয়েছিল খুবই বেদনাদায়ক। তিনি তখন মধ্য গগণে। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই মারাত্মক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে যায় তাঁর ফুটবল জীবন।
সেই দুর্ঘটনা ফুটবল মহলে খুবই চর্চিত। কিন্তু কীভাবে ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনা? বিশ্বজিৎ নিজেই শোনালেন সেই অভিশপ্ত ঘটনার কথা। “আমার দাদা বডি বিল্ডার ছিলেন। হিন্দি সিনেমা করতেন। তাঁর একটা বুলেট গাড়ি ছিল। আমাদের বাড়িতে অনেকগুলো গাড়ি ছিল। সবই চালিয়েছি, তবু ওই বুলেটটা চালানোর খুব লোভ ছিল। ব্যারাকপুরে র্যালিতে (Rally) যোগ দেব বলে ওই বুলেটটা নিয়ে প্র্যাকটিশ করছিলাম। ব্যারাকপুরে গিয়ে পরীক্ষায় একবারে পাসও করে গেলাম। তখন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এসে গেল। রেড রোডে আমি ১০৫-১১০ গতিতে চালাতাম। ছোটখাট রাস্তায় ৭০-৮০ গতিতে। একদিন হরিশ মুখার্জি রোড দিয়ে ফিরছি। আশুতোষ কলেজের সামনে দিয়ে ক্যানসার হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি। আমি ডানদিকে ঘুরতে যাই। তখনই বসুশ্রীর সামনে দিয়ে এসে একটা অ্যাম্বাস্যাডর সরাসরি আমার পায়ে ধাক্কা মারে। পা ভেঙে দু টুকরো হয়ে যায়।“

তারপর চার পাঁচবার অস্ত্রোপচার করিয়েও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাশিয়ায় গিয়ে অস্ত্রোপচার করান। বিশ্বজিৎ বলছিলেন, “সেই রড এখনও আমার পায়ে আছে।“ এভাবেই মাত্র ২৬ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায় দেশের অন্যতম সেরা ফুটবল প্রতিভার কেরিয়ার। আক্ষেপ হয় না? বিশ্বজিৎ জানান, “আক্ষেপ হয়ত নেই, তবে মন তো খুব ভেঙে গিয়েছিল ঠিকই। আমি চাইব আমার সবচেয়ে বড় শত্রুকেও যেন এই রকম পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।“
